নিজস্ব প্রতিবেদক:
মায়ের কাছে ভালো খাবার, একটি সাবান আর নতুন পাঞ্জাবির আবদার জানিয়ে লেখা এক মাদরাসাছাত্রের হৃদয়স্পর্শী চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নাড়া দেয় অনেকের মন। সেই আবেগঘন চিঠির সূত্র ধরে অবশেষে শিশুটির পাশে দাঁড়ালেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান।
শিশুটির নাম তাহসিন আব্দুল্লাহ (১০)। ছোট্ট এই মাদরাসাছাত্র মায়ের উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে নিজের কষ্টের কথা জানিয়েছিল সরল ভাষায়। চিঠিতে সে লিখেছিল, আম্মা, আমারে একটা সাবান দিও। তিন দিন আগে সাবান শেষ। একটা সাদা পাঞ্জাবি দিও, আগেরটা ছিঁড়ে গেছে। ইফতারে বুট-মুড়ি দেয়, রাতে ভাত দেয় না। আমার জন্য কিছু ভালো খাবার আইনো। একটা মশারি আর চাদর দিও, মশা খুব কামড়ায়।
শিশুটির এই অসহায় আর নিরীহ আবদার অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রায় দুই দিন অনুসন্ধান চালিয়ে গতকাল রোববার (১৫ মার্চ) ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে তাহসিনের পরিবারের সন্ধান পান আতিকুর রহমান।
পরে তিনি নিজেই তাহসিনের সঙ্গে দেখা করেন এবং চিঠিতে উল্লেখ করা প্রতিটি প্রয়োজন পূরণের উদ্যোগ নেন। শিশুটির জন্য সাবান, খাবার, ঈদের নতুন পোশাক হিসেবে সাদা পাঞ্জাবি, মশারি, বিছানার চাদরসহ নানা প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেন। শুধু তাই নয়, তাহসিনের ভবিষ্যৎ যেন থেমে না যায়, সে লক্ষ্যেই তার পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
মানবিক এই উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন ছাত্রদল নেতা আতিকুর রহমান। অনেকেই এটিকে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।
বাকৃবির ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল হাসান শিকদার তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ধন্যবাদ আতিক। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এমন মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে আসছে, এটা সত্যিই গর্বের।
এ বিষয়ে আতিকুর রহমান বলেন, শিশুটির চিঠিটি পড়ে খুব কষ্ট লেগেছিল। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। চিঠিতে যে চাহিদাগুলোর কথা বলা হয়েছিল সেগুলো পূরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি তার পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্বও আমি নিয়েছি।
একটি ছোট্ট চিঠি যেখানে ছিল এক শিশুর সরল চাওয়া, আর সেই চিঠিই যেন জাগিয়ে তুলেছে মানবিকতার আলো। তাহসিনের মুখে হাসি ফোটাতে এগিয়ে আসা এই উদ্যোগ অনেকের কাছেই হয়ে উঠেছে সহমর্মিতা ও মানবিকতার এক অনন্য।