গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের চর থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গ্রামবাসী ও ছাত্রদল নেতার অনুসারীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার জেরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ছাত্রদল নেতার অন্তত সাতটি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার (বিকেল) পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি কলেজসংলগ্ন চরআলগী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মুক্তার হোসেনকে সংগঠনের উপজেলা আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন অনুমোদন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে জেগে ওঠা চরআলগী মৌজার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, যার ফলে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে। এ নিয়ে অতীতেও একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুক্তার হোসেনের অনুসারীরা সম্প্রতি চর এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বুধবার এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মুক্তার হোসেনের অনুসারীরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে নৌকার মাঝি ওয়াইজ উদ্দিনকে মারধর করেন এবং তার নৌকায় আগুন ধরিয়ে দেন। এ খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে তাদের ধাওয়া দেন।
ধাওয়া খেয়ে মুক্তার হোসেনের অনুসারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ফেলে যান। পরে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী সরকারি কলেজসংলগ্ন সড়কে থাকা অন্তত সাতটি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন।
গফরগাঁও উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আবদুল কাইয়ুম বলেন, মুক্তার নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলার কারণে নদীভাঙন বাড়ছে। এ নিয়ে আগেও কথা-কাটাকাটি হয়েছে। আজ তার লোকজন একজন মাঝিকে মারধর ও নৌকা পুড়িয়ে দিলে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাদের ধাওয়া দেয়। এ বিষয়ে জানতে মুক্তার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, ছয়-সাতটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এখনো কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময় উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ এখনো বিরাজ করছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অবৈধ বালু উত্তোলন এবং নদীভাঙন ইস্যুতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।