নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরঘেঁষা চরাঞ্চলবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০০৬ সালের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পরানগঞ্জে ২০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণ করেন। কিন্তু উদ্বোধনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
২০০৮ সালে সরকার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে প্রায় ১৮ বছর অতিবাহিত করলেও হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে ইনডোর সেবা এবং রোগী ভর্তি কার্যক্রম চালু না হওয়ায় এটি কার্যত একটি আউটডোর কেন্দ্র হিসেবেই সীমাবদ্ধ ছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন করলে ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ দীর্ঘদিনের অবহেলিত এই হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
নিজের ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, পরানগঞ্জ ২০ শয্যার হাসপাতালের ইনডোর সেবা চালুর জন্য ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান সরকারের প্রধান তারেক রহমান-এর সদিচ্ছায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ময়মনসিংহ-০৪ (সদর) আসনের ৪নং পরানগঞ্জ ইউনিয়নে অবস্থিত এই হাসপাতালটি বর্তমানে কেবল বহির্বিভাগীয় চিকিৎসা দিয়ে আসছে। অথচ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে ইনডোর সেবা বন্ধ থাকায় চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে এখানে নারী ও শিশু স্বাস্থ্যসেবাসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও গুরুতর রোগীদের অন্যত্র যেতে হচ্ছে, যা সময় ও ব্যয়ের দিক থেকে কষ্টসাধ্য।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে হাসপাতালটির জন্য বরাদ্দকৃত বেড, এক্স-রে মেশিনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয়। অভিযোগের তীর ছোঁড়া হয়েছে তৎকালীন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মজিবুর রহমান-এর দিকে, যিনি এসব সরঞ্জাম নিজের এলাকা গৌরীপুরে নিয়ে গেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিএনপি সরকারের সময়ে হাসপাতাল ভবনের পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্টাফদের জন্য আবাসন ভবনও নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী ১৮ বছরে সেটি সচল না হওয়া দুঃখজনক।
তবে বর্তমানে ইনডোর সেবা চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ। তারা মনে করছেন, এই হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে ব্রহ্মপুত্র তীরবর্তী দুর্গম অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার দীর্ঘদিনের সংকট দূর হবে।
স্থানীয়দের ভাষায়, অনেক দেরিতে হলেও এই উদ্যোগ আমাদের জন্য আশার আলো। হাসপাতালটি চালু হলে আর দূরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে না। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে চরাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে।