গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহঃ
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় এক অসহায় ব্যাটারিচালিত ভ্যানচালকের ওপর মারধর, তার বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের ফানুর গ্রামে ঘটেছে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী ভ্যানচালক হারুন খান অভিযোগ করেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি শামছুল হক ঝন্টুর নির্দেশ অমান্য করায় তার ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হারুন খান বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় চেয়ারম্যান ঝন্টুকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত অন্যরা হলেন বাচ্চু মুনশি, আব্বাস আলী, হাবিবুর রহমান, আ. হেকিম ও শাহাব উদ্দিন খাঁ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে চেয়ারম্যান ঝন্টুর নির্দেশে তার বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বহনের জন্য ভাড়ায় যেতে অস্বীকৃতি জানান হারুন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যান তাকে প্রকাশ্যে মারধর করেন। এ ঘটনায় গত ১ অক্টোবর হারুন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২ অক্টোবর পুলিশ তদন্তে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এরপর ৩ অক্টোবর চেয়ারম্যান ঝন্টু তার অনুসারীদের নিয়ে হারুনের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলাকারীরা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এমনকি হারুনের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটিও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় হারুনের মা জোবেদা খাতুন ও স্ত্রী জোসনা বেগমকেও মারধর করা হয় বলে জানা গেছে।
বর্তমানে প্রাণভয়ে হারুন খান ও তার পরিবার বাড়িছাড়া হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে হারুন বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় আমার সবকিছু শেষ করে দিয়েছে। আমার ঘর নেই, ভ্যান নেই আমি এখন কোথায় যাব?
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল হক ঝন্টু বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। হারুনের আচরণে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ ছিল। তাদের ক্ষোভ থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে। আমি বরং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, আবার কেউ নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি, নইলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের আশা ক্ষীণ হয়ে পড়ে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে অসহায় ভ্যানচালক হারুন খান কি ন্যায়বিচার পাবেন, নাকি প্রভাবশালীদের চাপে চাপা পড়ে যাবে এই ঘটনা? স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুরো এলাকা।