শেরপুরে প্রেমঘটিত বিরোধ ও আক্রোশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত আলোচিত আলামিন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই আসামীকে গ্রেফতার, হত্যায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে।
গত ১৮ মে ২০২৬ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শেরপুর সদর থানাধীন চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের নতুন বাগলগড় গ্রামের মানিক মাস্টারের বাড়ির উত্তর পাশে সোহেল মিয়ার নেপিয়ার ঘাসের ক্ষেত থেকে দেহ থেকে মাথাবিচ্ছিন্ন অর্ধগলিত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে মরদেহের পরিহিত ট্রাউজার ও জুতা দেখে তার ছেলে আলামিন হিসেবে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় তিনি অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে শেরপুর সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআই সদর দপ্তরের নির্দেশনায় পিবিআই জামালপুর জেলা তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে। তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই (নিঃ) ফয়জুর রহমানের ওপর।
পিবিআই সূত্র জানায়, অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনা এবং পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত, পিপিএম-এর তত্ত্বাবধানে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে ১৯ মে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শেরপুরের বাগলগড় গুচ্ছগ্রাম এলাকা থেকে শুভ (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে শুভ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং তার সহযোগী সম্রাটের নাম প্রকাশ করে। পরে একইদিন সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে জামালপুর সদর থানার পাথালিয়া সন্ধিক্লাব এলাকা থেকে সম্রাট (২০)কে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, আলামিনের ডিভোর্সি বোনের সঙ্গে শুভর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে আলামিন শুভর বোনকে নিয়ে সম্পর্কের প্রস্তাব দিলে শুভ অপমানিত বোধ করে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে।
পরে মোটরসাইকেলের গ্যারেজ করার জন্য শুভ আলামিনের কাছে এক লাখ টাকা চাইলে আলামিন পাল্টা শর্ত দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শুভ তার সহযোগী সম্রাটকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার প্রস্তাব দেয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৩ মে দুপুরে শুভ কৌশলে আলামিনকে বন্ধুর মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। পরে সুযোগ বুঝে লাইলনের দড়ি দিয়ে আলামিনের গলায় ফাঁস দেয় এবং সম্রাট তাকে চেপে ধরে রাখে। এরপর শুভ ধারালো চাকু দিয়ে আলামিনের গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
আসামী শুভর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও রশি উদ্ধার করেছে পিবিআই।
পরে আদালতে নেওয়া হলে শুভ ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এছাড়া মোটরসাইকেলের মালিক ও মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী সাঈদ আহাম্মেদ শান্তও আদালতে সাক্ষ্য দেন।
এ বিষয়ে পিবিআই জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, “ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে টিম পাঠাই এবং আলাদা আলাদা টিম গঠন করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করি। সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।