গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের পাগলা থানার আলোচিত কাউছার হত্যা মামলার মূলহোতাসহ দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. ফারুক (৩২) ও মো. রিটন মিয়া (৩৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নতুন চাকরির সন্ধানে বাড়ি থেকে বের হন কাউছার আলম (৪৫)। এরপর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের সঙ্গে তার সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে পুলিশ নিহতের পরিবারের সদস্যদের জানায় যে কাউছার আলমকে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাজমা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে পাগলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
পুলিশ সুপার ময়মনসিংহের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় একটি বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে গত ২৬ মে ভোরে পাগলা থানার মশাখালী টানপাড়া এলাকা থেকে রিটন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
জবানবন্দিতে রিটন জানান, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কাউছার আলমকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ একটি জামগাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে আসামিরা।
পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার ডিবির কাছে ন্যস্ত হলে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ জুন সন্ধ্যায় ঈশ্বরগঞ্জের চেয়ারম্যান বাজার এলাকা থেকে মামলার মূলহোতা ফারুককে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ফারুক জানান, তার স্ত্রীর বড় বোনের সঙ্গে নিহত কাউছার আলমের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ ও ক্ষোভ থেকে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন।
ডিবি পুলিশ জানায়, ফারুকের বিরুদ্ধে মাদক, চুরি ও হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অতীতে দস্যুতা ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথাও স্বীকার করেছেন।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, এ মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কিনা, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।