আরিফ রব্বানী, ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছে ৯৩নং ভাবখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান, স্কুলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে নিয়মাবর্তিতা, ডিজিটাল ক্লাস রুম, মানসম্মত ফলাফল, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের হার কমানো, আধুনিক সুবিধাসহ নানা বিষয়ে স্কুলটিকে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত করা হয়েছে।
বুধবার (৩রা জুন) বিকালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬
শিক্ষা পদক বাছাই কমিটির সভা শেষে কমিটির সভাপতি ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান এবং কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আবু ইউসুফ খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞাপ্তির মাধ্যমে এই চুড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এই গৌরবময় অর্জনের মাধ্যমে স্কুলটি জেলার শিক্ষা ক্ষেত্রে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
স্কুল সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে অসাধারণ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ভাবখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই শিক্ষা পদক লাভ করেছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ধনি-গরিব সহ সকল শ্রেনী পেশার মানুষের সন্তানকে শিক্ষিত করার লক্ষ্যে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেছে সরকার। এক সময় টিনশেড বিল্ডিংয়ে প্রাইমারী স্কুল গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম চললেও বর্তমানে প্রতিটা প্রাইমারী স্কুলে আধুনিক ভবন নির্মান করছে সরকার।
জেলায় শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নিলুফার রহমান স্বপ্না মাননীয় জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ বাছাই কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে আমাদের স্মার্ট শিক্ষার্থী চাই। এই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় প্রাথমিক শিক্ষা দিনদিন এগিয়ে যাচ্ছে। তার একটি নতুন সংযোজন হলো স্মার্ট বাংলাদেশ। যার ছোঁয়া লেগেছে প্রতিটি বিদ্যালয়ে। যা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন এ শিক্ষিকা।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, স্কুলটিকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নিবার্চিত হওয়ার কৃতিত্ব শুধু মাত্র আমার একার নয়। এজন্য তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশীষ কুমারসহ বিদ্যালয়টির অন্যান্য সহকারী শিক্ষকদের। যাদের অনুপ্রেরণা ও সার্বিক সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে নিতে আমাকে সাহায্য করেছে।
প্রতিষ্ঠানটি তে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে খেলাধুলার মাঠ, রয়েছে ফুলের বাগান। দেয়ালঘেরা বিদ্যালয়টির চত্বর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। দেয়ালে আঁকা বিভিন্ন ফুল, ফল ও প্রাণীর ছবি, রয়েছে মনীষীদের বাণী, নানান ছড়া ও জুলাই গ্রাফিতি। সজ্জিত ক্লাস রুম,বঙ্গবন্ধু কর্নার,মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম,লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, স্কুলের শিক্ষার্থীদের অবিভাকসহ সকলের সাহায্যে স্কুলটিকে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন শিক্ষকরা।
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নিলুফার রহমান আরও বলেন, “এটি সম্পূর্ণ শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।আমরা সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। এই অর্জন আমাদের আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা যোগাবে।”
জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা এই অর্জনকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।