নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরকালীবাড়ি গ্রাম ও চরঈশ্বরদিয়া মৌজায় সরকারিভাবে অধিগ্রহণকৃত একটি প্রাচীন জামে মসজিদের ক্ষতিপূরণের টাকা কতিপয় অসাধু ব্যক্তি কর্তৃক আত্মসাতের পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে।
এল.এ কেস নং ০৪/২০২২-২৩ এর আওতাধীন 'হাতিম বাড়ী মুন্সীপাড়া জামে মসজিদ'-এর সরকারি ক্ষতিপূরণের অর্থ যেন কোনো বিতর্কিত বা অসাধু চক্র এককভাবে উত্তোলন করতে না পারে, সে জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
লিখিত দরখাস্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরকালিবাড়ী গ্রাম ও চরঈশ্বরদিয়া মৌজার (জে.এল. নং-৭৮) ৭৭২৭ দাগের ০.২০ একর বাড়ী শ্রেণির জমি ও তার ওপর অবস্থিত 'হাতিম বাড়ী মুন্সীপাড়া জামে মসজিদটি' সম্প্রতি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়।
নিয়ম অনুযায়ী উক্ত মসজিদের অনুকূলে সরকারি ক্ষতিপূরণের মোটা অঙ্কের টাকা বরাদ্দ করা হয়। মসজিদটি সরকারি অধিগ্রহণে চলে যাওয়ায় সেটি স্থানান্তরিত করে পার্শ্ববর্তী স্থানে নতুন করে নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইতোমধ্যে নিজেদের জায়গা দানপূর্বক নতুন মসজিদের স্থানও নির্ধারণ করেছেন।
অভিযোগে প্রকাশ, উক্ত মসজিদে দীর্ঘদিন যাবত কোনো বৈধ বা অনুমোদিত কমিটি না থাকার সুবাদে এলাকার কিছু সুযোগসন্ধানী ও অসাধু ব্যক্তি একটি ভুয়া ও বিতর্কিত পকেট কমিটি গঠন করেছে। এই বিতর্কিত কমিটির আড়ালে তারা মসজিদের সরকারি ক্ষতিপূরণের সম্পূর্ণ টাকা অবৈধভাবে উত্তোলন করে নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা ও আত্মসাতের গভীর পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রের সদস্যরা ইতিপূর্বেও মসজিদের প্রাঙ্গণে ইসলামী ওয়াজ মাহফিল আয়োজনের নামে নানা কৌশলে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে এবং এদের মধ্যে কেউ কেউ সমাজবিনাশী মাদকাসক্তির সাথে জড়িত বলে এলাকায় তীব্র গুঞ্জন রয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র চরঈশ্বরদিয়া এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আল্লাহর ঘরের পবিত্র অর্থ কোনোভাবেই অসাধু ব্যক্তিদের পকেটে যেতে দেওয়া হবে না।
এমতাবস্থায়, এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ধর্মীয় অনুভূতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার নিকট জোর দাবি জানানো হয়েছে।
তারা দাবি করেন, কোনো ব্যক্তি বা বিতর্কিত কমিটিকে এককভাবে এই অর্থ উত্তোলন করতে না দিয়ে, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ও সুনির্দিষ্ট নজরদারিতে উক্ত টাকা উত্তোলন করা হোক এবং যথাযথ স্থানে দ্রুত নতুন মসজিদ নির্মাণের প্রয়োজনীয় ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।