প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২২, ২০২৬, ৯:৪৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ২২, ২০২৬, ১:২৪ পি.এম
ফুলপুরে ৪৪ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ: দলিল সংশোধনের দাবিতে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আদালতের সামনেও পলাতক আসামি
ফুলপুরে ৪৪ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ: দলিল সংশোধনের দাবিতে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আদালতের সামনেও পলাতক আসামি
এস. এম. কে. মিজান, স্টাফ রিপোর্টার।
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বওলা ইউনিয়নের হাতিবান্ধা এলাকায় ৪৪ শতাংশ জমি ক্রয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘ প্রায় তিন থেকে চার বছর ধরে বিরোধ চলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মো. এরশাদ খান দাবি করেছেন, বৈধভাবে জমি ক্রয়, নামজারি (খারিজ), খতিয়ান ও নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করার পরও একটি পক্ষ জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা চলমান থাকলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ তার।
ভুক্তভোগী মো. এরশাদ খান, পিতা মো. ইব্রাহিম খান, গ্রামের বাড়ি হাতিবান্ধা ৬ নম্বর ওয়ার্ড, ১০ নম্বর বওলা ইউনিয়ন, ফুলপুর, ময়মনসিংহ। অভিযোগে বিবাদী করা হয়েছে হালুয়াঘাট উপজেলার শাকুয়াই ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা মতিউর রহমানের দুই ছেলে সাইদুল ইসলাম ও মোজাম্মেল হোসেন এবং ফুলপুর উপজেলার হাতিবান্ধা এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. মজিবুর রহমান দুলালকে। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২১ সালে মো. মজিবুর রহমান দুলালের কাছ থেকে ৪৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর যথাযথভাবে রেজিস্ট্রিকৃত দলিল, খারিজ, খতিয়ান সম্পন্ন করেন এবং চলতি বছরের খাজনাও পরিশোধ করেছেন। বর্তমানে জমিটি তার দখলেও রয়েছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, জমি বিক্রির পরও সাইদুল ইসলাম ও মোজাম্মেল হোসেন ওই জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন। তারা বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করছেন বলে অভিযোগ করেন এরশাদ খান। তিনি আরও জানান, জমির দলিলে কিছু ত্রুটি থাকায় তা সংশোধনের জন্য একাধিকবার স্থানীয়ভাবে দরবার ও সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে বিবাদীরা দলিল সংশোধনের আশ্বাস দিলেও পরে আর কোনো উদ্যোগ নেননি। ফলে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এ বিষয়ে বর্তমানে ময়মনসিংহের আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে মামলার অন্যতম আসামি মো. মজিবুর রহমান দুলাল দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, ফুলপুর সি.আর. মামলা নং-৭৯০/২০২৫, দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৩৪ ধারার মামলায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আমলি আদালত, ময়মনসিংহ গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ৮৭ ও ৮৮ ধারার বিধান অনুসারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯বি(১) ধারায় জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আদালতের বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে আসামি মো. মজিবুর রহমান দুলাল গ্রেপ্তার এড়ানোর উদ্দেশ্যে পলাতক রয়েছেন এবং শিগগির গ্রেপ্তার হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এজন্য বিজ্ঞপ্তি জারির সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তার অনুপস্থিতিতেই বিচারকার্য সম্পন্ন করা হবে বলে আদালত আদেশে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. এরশাদ খান বলেন, "আমি বৈধভাবে জমি কিনেছি। আমার কাছে দলিল, খতিয়ান, খারিজসহ সব কাগজপত্র রয়েছে এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করছি। তারপরও আমাকে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমি চাই আমার ক্রয়কৃত জমির দলিল দ্রুত সংশোধন করে দেওয়া হোক এবং আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তাই আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত