গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ১ হাজার ৮৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৬ কেজি গাঁজাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ ১০ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুনের সহযোগিতায় জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি (দক্ষিণ) মুহাম্মাদ মাহবুবুল হকের নির্দেশনায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে ডিবি পুলিশের এসআই খায়রুল ইসলাম ও তার সঙ্গীয় ফোর্স কোতোয়ালী মডেল থানার গলগন্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে উম্মে হাবিবা হাছি (২২) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেন। তার কাছ থেকে ৬ কেজি গাঁজা, ১২০ পিস ইয়াবা এবং মাদক বিক্রির ১০ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামতের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ টাকা।
একই দিন বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে ডিবির এসআই ইমরান হোসেন ও তার সঙ্গীয় ফোর্স ফুলপুর থানার ডেংবাড়ী ও পূর্ব ছনধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ ফাতেমা খাতুন (২৪) ও রাকিবুল হাসান রাব্বি (২৬) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়। এসব আলামতের আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।
পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ২টা ২৫ মিনিটে ডিবির এসআই রফিকুল ইসলাম ও তার সঙ্গীয় ফোর্স কোতোয়ালী মডেল থানার পাটগুদাম র্যালির মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোঃ রোমান মিয়া (৩০) ও মোঃ মিজানুর রহমান (৩২) নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেন। তাদের কাছ থেকে ৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৩৫ হাজার টাকা।
ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উদ্ধারকৃত আলামতের ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল ও ফুলপুর থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডিবি পুলিশের ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। পাশাপাশি মাদকবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।