বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করার প্রবণতা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া পলাশ। তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও অনেক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন। সামনে সম্মান দেখালেও আড়ালে সাংবাদিকদের নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা করা হয়, যা গণমাধ্যমের স্বাধীন ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য ইতিবাচক নয়।
তিনি বলেন, একজন সাংবাদিকের মূল দায়িত্ব হলো সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরা, অনিয়ম-অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন করা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করা। সাংবাদিক যখন কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করেন বা তথ্য জানতে চান, তখন সেটিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে না দেখে জনস্বার্থে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে দেখা উচিত।
গোলাম কিবরিয়া পলাশ বলেন, একজন সাংবাদিক দিনের পর দিন মাঠপর্যায়ে কাজ করেন। মানুষের সমস্যা, দুর্ভোগ, অনিয়ম, সম্ভাবনা ও সাফল্যের খবর সংগ্রহ করে তা গণমাধ্যমে তুলে ধরেন। অনেক সময় ঝুঁকি ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সাংবাদিকরা দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তাদের কাজকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পেশাগত দায়িত্ব ও জনস্বার্থের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার সম্পর্ক থাকা জরুরি। সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কিংবা কোনো তথ্যের ব্যাখ্যা দেওয়া মানেই কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়; বরং এটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বলেন, গণমাধ্যম ও প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সুস্থ সম্পর্ক থাকলে জনগণ আরও বেশি উপকৃত হয়। সাংবাদিকরা যেমন দায়িত্বশীলভাবে তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করবেন, তেমনি কর্মকর্তাদেরও সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সম্মানের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
তিনি বলেন, ভুল সংবাদ হলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বা গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য-প্রমাণসহ বিষয়টি তুলে ধরা যেতে পারে। কিন্তু কোনো সাংবাদিক প্রশ্ন করলেই তাকে নেতিবাচকভাবে দেখা কিংবা ব্যক্তিগতভাবে সমালোচনা করা পেশাগত পরিবেশের জন্য সহায়ক নয়। বরং তথ্যভিত্তিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটানো সম্ভব।
গোলাম কিবরিয়া পলাশ আরও বলেন, একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাংবাদিকদের যেমন পেশাগত নীতি ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে হবে, তেমনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকেও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। কারণ জনস্বার্থে সত্য তুলে ধরা, প্রশ্ন করা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্বের অংশ।
তিনি সাংবাদিকদের প্রতি সম্মানজনক ও পেশাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সাংবাদিকদেরও দায়িত্বশীলতা, তথ্যের যথার্থতা ও পেশাগত নৈতিকতা বজায় রেখে জনস্বার্থে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।