
গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার বলেছেন, উপজেলা শিক্ষা ট্রাস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা গেলে সমাজে আদর্শবান, মানবিক ও কর্মক্ষম মানুষ তৈরি করা সম্ভব হবে। শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ এসব মানুষ কখনোই সমাজের বোঝা হবে না; বরং দেশ ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শনিবার (তারিখ) দুপুরে ধোবাউড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘উপজেলা শিক্ষা ট্রাস্টের শিক্ষা সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠান’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজন কান্তি সরকার বলেন, জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে উপজেলা শিক্ষা ট্রাস্ট গঠন এবং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রদান একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। শিক্ষা শুধু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, এটি একজন মানুষকে সুশিক্ষিত, দায়িত্বশীল ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। তাই সমাজের প্রতিটি স্তরে শিক্ষার প্রসারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আসলে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হওয়া উচিত মানুষের জন্য। আমরা যদি ভালো মানুষ তৈরি করতে পারি, তাহলে তার সুফল সমাজ ও রাষ্ট্র বহু গুণে ফিরে পাবে। একজন শিক্ষিত ও আদর্শবান মানুষ একটি পরিবার, সমাজ এবং জাতির উন্নয়নের চালিকাশক্তি হতে পারে।”
এ ধরনের মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করায় জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি কর্মসংস্থান ব্যাংকসহ সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে উপজেলা শিক্ষা ট্রাস্টে অনুদান প্রদানের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগই হচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে কার্যকর বিনিয়োগ।
ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোশাররফ হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমর রুবেল, কর্মসংস্থান ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব ড. এ এফ এম মতিউর রহমান, কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুন কুমার চৌধুরী, সাবেক অতিরিক্ত সচিব রেভা রানী সাহা এবং ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান। তিনি বলেন, ময়মনসিংহ জেলার সবকটি উপজেলায় উপজেলা শিক্ষা ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে। এই ট্রাস্টের মূল উদ্দেশ্য হলো হতদরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সহায়তা করা। শিক্ষার সুযোগ থেকে যেন কোনো শিক্ষার্থী শুধুমাত্র আর্থিক সংকটের কারণে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ধোবাউড়া উপজেলায় আজ দুইজন শিক্ষার্থীর হাতে আড়াই হাজার টাকা করে শিক্ষা সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে। যেসব শিক্ষার্থীর লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই, তাদের পাশে দাঁড়াবে উপজেলা শিক্ষা ট্রাস্ট।
জেলা প্রশাসক সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষা ট্রাস্টে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষায় বিনিয়োগ মানেই একটি আলোকিত ভবিষ্যৎ নির্মাণ। সমাজের সক্ষম ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী এই তহবিলের সুবিধা পাবে।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে অতিথিবৃন্দ দুইজন শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা বৃত্তির আড়াই হাজার টাকা করে চেক তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা শিক্ষা ট্রাস্টের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
স্থানীয়দের মতে, আর্থিকভাবে অসচ্ছল কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে উপজেলা শিক্ষা ট্রাস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগ শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমাতেও সহায়ক হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।