
স্টাফ রিপোর্টারঃ
কলেজ পরিচালনা কাজে বিভিন্ন মিটিং সেমিনারে
কাগজে কলমে উপস্থিতি দেখালেও গত দুই বছরে শুধু কলেজই নয় বরং এলাকাতেই আসেননি বরিশালের বানারিপাড়ার সৈয়দ বজলুল হক কলেজ”র সভাপতি সভাপতি প্রয়াত সাবেক সাংসদ সৈয়দ শহীদুল হক জামালের সন্তান ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইফুল হক। এই নিয়ে কলেজ কমিটি ও শিক্ষকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে অবস্থিত সৈয়দ বজলুল হক কলেজ। নদীর ওপারে পাচঁটি ইউনিয়নের একমাত্র ভরসা ঐতিহ্যবাহী এই সৈয়দ বজলুল হক কলেজ। তবে দীর্ঘদিন ধরে কলেজটির পিছু ছাড়ছেনা অসন্তোষ।বিএনপি ক্ষমতার সাত মাস কেটে গেলেও বানারীপাড়ার বাইশারী ইউনিয়নের সৈয়দ বজলুল হক কলেজ”র সভাপতির মুখ দেখেনি দেড় বছরে কেউ। সৈয়দ বজলুল হক কলেজ”র সভাপতি প্রয়াত সাবেক সাংসদ সৈয়দ শহীদুল হক জামালের সন্তান ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইফুল হক। ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইফুল হক তার পিতার মৃত্যুর পর একবার মিলাদে বানারীপাড়া এসেছেন তবে এলাকাবাসী বলছে দুই বছরে তিনি এলাকায় আসেননি। অভিযোগে জানা যায় ৯/৩/২০২৫ তারিখে বিগত ইউনুস সরকারের সময় অদৃশ্য ক্ষমতা বলে তিনি দ্বায়িত্ব পান কলেজের সভাপতির যার মেয়াদ রয়েছে ১৮/০৩/২০২৭ তারিখ পর্যন্ত। তিনি দ্বায়িত্ব পাবার দেড় বছরেও এখন পর্যন্ত পা রাখেননি সৈয়দ বজলুল হক কলেজে। কলেজের যত মিটিং,জরুরী সভা ও সাক্ষর এই সকল কিছু জন্য সভাপতি সৈয়দ সাইফুল হক’কে দরকার হলে কলেজের সকলকে উপস্থিত হতে হয় তার ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বাসায়। কাগজে কলমে সকল সভা মিটিং কলেজে উপস্থিত দেখালেও আসলে সেই সকল সভা মিটিং হয় তার ঢাকা বাসায়। এ নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায়না।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায় তার পিতা সৈয়দ শহীদুল হক জামালে ২০০৬ সালে বিএনপি সরকার পতনের পর বিএনপি’র বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করে হয়েছিলেন সংস্কারপন্থী এর পরে তিনি ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মোরগ মার্কা নিয়ে সতন্ত্র হয়ে নির্বাচন করে ধানের শীষের প্রার্থী বর্তমান সাংসদ এস সরফুদ্দিন আহমেদ সেন্টু সরদার’কে হারিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করেছিলেন।
এছাড়াও বিগত ১৬ই মে ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাথে টেলিগ্রাম যোগাযোগ মাধ্যমে একটি মিটিং করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী কর্মি জানান বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সহ সভাপতি সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে
সৈয়দ শহীদুল হক জামালের বাড়ি অর্থাৎ ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইফুল হকের বাড়ি ভাংচুরের কথা উল্লেখ করেন। ওই সময়ে এলাকায় এই ঘটনা নিয়ে বেশ চাঞ্চল্যতা সৃষ্টি হয়।
তবে এখন এলাকার সাধারন মানুষের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে তার পরিবার বিএনপির এত বড় ক্ষতি করে এখনো কিভাবে কলেজের সভাপতি পদে বহাল তবিয়তে রয়েছে।
এ বিষয়ে বজলুল হক কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ এনামুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান আমি এব্যাপারে এখন কোন বক্তব্য দিবনা তবে আপনি অন্য কোন মাধ্যম দ্বারা জেনে নিতে পারেন। তিনি আরও জানান যেহেতু তিনি আমার সভাপতি তাই আমি এব্যপারে কোন মন্তব্য করতে পারিনা।
এবিষয়ে বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম মিয়া’কে ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইফুল হক বজলুল হক কলেজে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পরে এসেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইফুল হক সভাপতি হওয়ার পরে আমি দেখি নাই বা শুনিও নাই যে তিনি এসেছেন। এছাড়াও তিনি এসেছেন কোন মিটিং করেছেন বা কোন ধরনের আয়োজন হয়েছে এরকম আমার জানাও নেই শোনাও নেই। ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইফুল হকের রাজনৈতিক কর্মকান্ড সম্পর্ক জানতে চাইলে তিনি বলেন তিনি রাজনীতি করেন এমন কিছু পরিলক্ষিত হচ্ছেনা। এলাকায় কোন ধরনের রাজনৈতিক পদচারনা নেই তবে ঢাকায় আছে কিনা বলতে পারব না।
এ বিষয় কলেজের সভাপতি সৈয়দ সাইফুল হকের কাছে এ বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোন 01776666666 নাম্বারে ফোন দিলে তার নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।