
গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ব্যুরো প্রধান, ময়মনসিংহঃ
ময়মনসিংহ নগরীর সুতিয়াখালী এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে মোঃ আব্দুল সুবান (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে গুরুতর জখম এবং তার সঙ্গে থাকা নগদ ৬ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত বৃদ্ধের স্ত্রী মোছাঃ জিন্নাত আরা (৫৫) কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে কোতোয়ালী থানাধীন সুতিয়াখালী লালু সরকার বাড়ী, ২৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আব্দুল সুবানকে ঘিরে ফেলেন।
অভিযোগকারী জিন্নাত আরার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত মোঃ আজিমের নির্দেশে মোঃ তানভীর হাতে থাকা রামদা দিয়ে আব্দুল সুবানের মাথা লক্ষ্য করে কোপ দেন। এতে তার মাথার ডান পাশে গুরুতর কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয়। পরে অভিযুক্তরা তাকে অচেতন অবস্থায় ধানক্ষেতে ফেলে রেখে যায় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় ঘর নির্মাণের জন্য সঙ্গে থাকা নগদ ৬ লাখ টাকা অভিযুক্তরা জোরপূর্বক নিয়ে যায়। পরে তারা বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং থানায় অভিযোগ করলে প্রাণনাশ ও লাশ গুমের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন অচেতন অবস্থায় আব্দুল সুবানকে দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী জিন্নাত আরা আরও দাবি করেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে তার ও পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করতে পারে, এমন আশঙ্কার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় মোছাঃ জিন্নাত আরা কোতোয়ালী মডেল থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্তরা হলেন: মোঃ আজিম (৩৫), মোঃ তানভীর (২৪), সুমন (৩০), সোহাগ (৩২) ও মোছাঃ হাজেরা খাতুন (৫০)। তাদের সবার ঠিকানা ময়মনসিংহ নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুতিয়াখালী এলাকায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী জানিয়েছেন, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন এবং সরেজমিনে তদন্ত করা হলে সাক্ষীরা ঘটনার সত্যতা তুলে ধরতে পারবেন।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানার এ এসআই রাকিবুল বলেন, তদন্তের বার আমার উপর পড়েছে। আগে ঘটনাস্থলে যায় তদন্ত করে বিস্তারিত পরে জানাবো।