
মোঃ আজিজুর রহমান (আজিজ), নিজস্ব প্রতিবেদক, জামাল পুর:
চলতি আমন ও আসন্ন শীতকালীন ফসল মৌসুমে দেশের কৃষিখাতে এক চরম বৈপরীত্য দেখা দিয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি গুদামে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সারের মজুদ রয়েছে। অথচ মাঠপর্যায়ে কৃষক সরকার-নির্ধারিত দামে সার পাচ্ছেন না। ডিলারদের কারসাজি, অবৈধ মজুদ এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির কারণে দ্বিগুণ ও তিনগুণ দামে খোলাবাজার থেকে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন প্রান্তিক চাষিরা। অসাধু চক্রের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ কৃষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, সারের এই চলমান সংকটের নেপথ্যে রয়েছে বিসিআইসি ও বিএডিসি অনুমোদিত একশ্রেণীর অসাধু ডিলার সিন্ডিকেট।
সরকারি বরাদ্দ পাওয়ার পরও অনেক ডিলার গুদামে সার না রেখে তা গোপন করে রেখে বাজারে কৃত্তিম সংকট তৈরি করছেন
বরাদ্দকৃত সার কৃষকদের না দিয়ে গোপনে আড়তদার ও অসাধু খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।
প্রতি ৫০ কেজি ইউরিয়া, টিএসপি কিংবা ডিএপি সারের বস্তায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে।
বিতরণ ব্যবস্থার এমন চরম অব্যবস্থাপনা ও দুর্বল মনিটরিংয়ের সুযোগ নিচ্ছেন ডিলাররা। সম্প্রতি কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ক্ষুব্ধ কৃষকরা এক ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিতে বাধ্য হন, যা দেশের মাঠপর্যায়ের সংকটের ভয়াবহ রূপ স্পষ্ট করে দেয়।
সার সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দেশের প্রান্তিক ও বর্গাচাষিরা। আমন ধান ও শীতকালীন সবজি রোপণের পিক-টাইমে সময়মতো সার না পাওয়ায় তাদের ফসল উৎপাদন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
বাড়তি দামে সার কেনার কারণে কৃষকের উৎপাদন খরচ একলাফে অনেক বেড়ে যাচ্ছে, যা তাদের মুনাফার বদলে ঋণের জালে ঠেলে দিলো।