
অনলাইন ডেক্স:
অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে কমিশন কেটে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে টাঙ্গাইলে আরও চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট শাখার একটি চৌকস আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত ১১টার দিকে টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন:- টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বড় বাশালিয়া এলাকার বাবলু মিয়া (২৮), বাগীল এলাকার মো. মনির হোসেন (৩০), সখিপুরের জেলখানা মোড় এলাকার নূর সাফায়েত ইপ্তি (২৪) এবং তালেপাবাদ এলাকার শামীম আল মামুন (২৯)।
সিআইডি সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে সিপিসি সম্প্রতি দেশের অভ্যন্তর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং বা জুয়ার ওয়েবসাইটের কার্যক্রমের সন্ধান পায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে এবং অনলাইন ক্যাসিনোর মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে বেটিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।
এসব বেটিং সাইটে ব্যবহৃত বিভিন্ন এজেন্টের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক হিসাবসহ অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে সিআইডি বাদী হয়ে ঢাকার পল্টন থানায় মামলা করে। গত ১৭ মে ২০২৬ তারিখে দায়ের করা মামলাটির নম্বর ২০। মামলায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২০(২), ২১(২), ২২(২), ২৪(২), ২৭(২) ও ২৯(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, গ্রেফতারকৃতরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন বেটিংয়ের এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করত। পরে এসব হিসাব অনলাইন বেটিং সাইটে ব্যবহার করা হতো।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টরা নিজেদের কমিশন কেটে রাখার পর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থ বিদেশে পাচার করে আসছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা অর্থের বিনিময়ে এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে অনলাইন জুয়া চক্রের অ্যাডমিন সদস্যদের কাছে সরবরাহ করার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। এসব এজেন্ট সিম অনলাইন বেটিং সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত হতো বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
সিআইডি জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম সাইবার পুলিশ সেন্টারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক, অবৈধ ই-ট্রানজেকশন, অর্থপাচার কার্যক্রম এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে আরও ১০ জন গ্রেফতার: সিআইডি জানায়, একই মামলায় এর আগে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের আরও ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ৭ জুন টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সোলায়মান (৪৭), মো. সাগর মিয়া (২৮) ও মো. জুয়েল রানা (৩২) নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
এরপর ১৬ জুন নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. রায়হান খান (২১), মো. পাভেল রহমান ভূইয়া (২৩) ও আবু জোবায়ের সানি (৩৬) নামে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করে সিআইডি।
গত ১২ জুলাই নড়াইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. জসিম উদ্দীন (৩৩) ও সুমন রায় (২৮) নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। সর্বশেষ গত ১৯ আগস্ট রাজশাহী নগরের চন্দ্রিমা থানাধীন পদ্মা আবাসিক এলাকার রোড নম্বর-২-এর ২৬৪ নম্বর বাসা থেকে সৈয়দ জামান (২৭) ও রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পী (২৮) নামে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সিআইডি দেশের জনগণকে অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন বেটিং বা জুয়ার নামে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার জন্যও জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি।