
ফুলপুর ময়মনসিংহ সংবাদ দাতা মোঃ কামরুল ইসলাম খান:
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ঠাকুরবাখাই ময়েজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় স্কুলের দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী (১৭) এক ফুটফুটে সন্তান প্রসব করেছেন। তবে সন্তানের জন্মের পর থেকেই পিতৃত্বের স্বীকৃতির দাবিতে আকুতি জানাচ্ছেন ওই কিশোরী মা। অপরদিকে, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত রনি তালুকদার এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৫নং সদর ইউনিয়ন এর ঠাকুরবাখাই এলাকার রনি তালুকদারের সাথে ওই স্কুলছাত্রীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রনি ওই শিক্ষার্থীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়লে সে বিষয়টি রনিকে জানায় এবং বিয়ের জন্য চাপ দেয়। তবে রনি নানা টালবাহানায় সময় ক্ষেপণ করতে থাকে।
সম্প্রতি ওই কিশোরী গত ২-১০-২০২৬ ইং আনুমানিক রাত নয় টার সময় একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর বিষয়টি পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। নবজাতকের মুখ চেয়ে মেয়েটির পরিবার রনির কাছে বিয়ের দাবি জানালেও রনি ও তার পরিবার বিষয়টি অস্বীকার করে এবং তড়িঘড়ি করে রনি আত্মগোপনে চলে যায়।
ভুক্তভোগী কিশোরী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, “আমার বাচ্চার কোনো দোষ নেই। আমি সমাজে আমার সন্তানের বাপের নাম ও সঠিক পরিচয় চাই। রনি আমাকে বিয়ের কথা বলে প্রতারণা করেছে।”
মেয়েটির পরিবার জানায়, তারা এ বিষয়ে স্থানীয় মাতব্বরদের মাধ্যমে সালিশ-দরবারের চেষ্টা করেও কোনো সুরাহা পাননি। এখন তারা অভিযুক্ত রনি তালুকদারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সন্তানের পিতৃত্বের অধিকার আদায়ের জন্য আইনি ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রনি তালুকদার মৃত ফকরুল ইসলাম তালুকদার ও আয়শা খাতুন দম্পতির ছেলে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত রনিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।