
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ, ভোগান্তি আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বস্তির মুখ দেখছে ময়মনসিংহ নগরবাসী। একসময় যেখানে প্রতিদিনের চিত্র ছিল তীব্র যানজট, অব্যবস্থাপনা ও নিত্যদিনের অপরাধ সেই শহরই এখন অনেকটাই বদলে গেছে। নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে এখন আর আগের মতো স্থবিরতা নেই, বরং দেখা যাচ্ছে স্বাভাবিক ও গতিশীল যান চলাচল।
সকালে অফিসগামী মানুষ কিংবা শিক্ষার্থীদের জন্য একসময় সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা ছিল সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার সেই কষ্ট এখন অনেকটাই অতীত। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ থাকলেও তা আর বিশৃঙ্খল নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ।
রিকশাচালক, বাসচালক থেকে শুরু করে পথচারী সবার মধ্যেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে স্বস্তি। সাধারণ মানুষ বলছেন, আগে যেখানে ৩০ মিনিটের পথ যেতে দেড় ঘণ্টা লাগত, এখন সেখানে নির্ধারিত সময়েই পৌঁছানো যাচ্ছে।
এই ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন এবং জেলা পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ। বিশেষ করে নবনিযুক্ত প্রশাসক মোঃ রুকুনোজ্জামান রোকন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নগর ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে।
অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে কঠোরতা এবং নিয়মিত মনিটরিং এসব পদক্ষেপের ফলে দ্রুতই দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু নির্দেশনা নয়, বাস্তবায়নই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
যানজটের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিও এখন আলোচনায়। কোতোয়ালি মডেল থানা-এর অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নগরীতে অপরাধ দমনে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তার নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে চুরি, ছিনতাই, পকেটমারসহ নানা অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশের টহল বৃদ্ধি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এসব কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বেড়েছে।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, “আগে সন্ধ্যার পর দোকান খোলা রাখতে ভয় লাগত, এখন অনেকটা নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে পারছি।
আসন্ন ঈদ উপলক্ষে নগরীর মার্কেটগুলোতে এখন ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। তবে আগের মতো বিশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। ক্রেতারা নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারছেন, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যেও সন্তুষ্টি এনেছে।
বাজারে আসা এক ক্রেতা জানান, আগে ব্যাগ নিয়ে বের হলে ভয় থাকত, এখন অনেকটাই নিশ্চিন্ত লাগছে।
নগরবাসী এই ইতিবাচক পরিবর্তনে সন্তুষ্ট হলেও তারা চান, এই ধারা যেন স্থায়ী হয়। পরিকল্পিত নগরায়ন, উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, এটি একটি ভালো সূচনা। এখন প্রয়োজন ধারাবাহিকতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যাতে ময়মনসিংহ একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও নিরাপদ শহরে পরিণত হতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো কাটিয়ে ময়মনসিংহ এখন নতুন এক সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তা এবং নাগরিকদের সহযোগিতা এই তিনের সমন্বয়ই শহরটিকে বদলে দিচ্ছে।
এই পরিবর্তন যদি অব্যাহত থাকে, তবে খুব শিগগিরই ময়মনসিংহ দেশের অন্যতম সুশৃঙ্খল ও আধুনিক নগরী হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে এমনটাই প্রত্যাশা।