
স্টাফ রিপোর্টার, শেরপুর:
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় ট্রাংকের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া এক নারীর লাশের রহস্য মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গত ১ এপ্রিল ২০২৬ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রীবরদী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তাঁতিহাটি পশ্চিম নয়াপাড়া এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে একটি ট্রাংকের ভেতর তালাবদ্ধ অবস্থায় এক নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটি তোশকে মোড়ানো ছিল এবং হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।
পরে পিবিআই জামালপুর জেলা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত নারী মোছাঃ ডলি আক্তার (পিতা: মোঃ আলাল মিয়া), যার বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায়। খবর পেয়ে নিহতের ভাই মোঃ শফিকুল ইসলাম শ্রীবরদী থানায় এসে লাশ শনাক্ত করেন এবং অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি পিবিআই-এর তদন্তাধীন হওয়ায় সংস্থাটি দ্রুত তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ আব্দুস সালাম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লাশ বহনকারী নীল রঙের একটি পিকআপ ভ্যান শনাক্ত করেন। পরদিন ৩ এপ্রিল শ্রীবরদীর ভেলুয়া ইউনিয়ন এলাকা থেকে পিকআপটি উদ্ধার করা হয় এবং চালক মোঃ আশরাফ আলীকে গ্রেফতার করা হয়।
চালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল আসামি মোঃ নিয়ামুর নাহিদ (২৬) এবং তার স্ত্রী মোছাঃ রিক্তা মনি (২৬)-কে ৪ এপ্রিল ভোররাতে শেরপুর সদর থানার ভাতশালা পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেছেন। পিবিআই জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।