
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় অবস্থিত সোয়ান ফিলিং স্টেশনকে ঘিরে তেল ক্রয় ও সরবরাহে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বিএনপি নেতা হাফেজ আজিজুর রহমান উক্ত ফিলিং স্টেশনের মালিক ডিপুর কাছ থেকে প্রায় ৫৬ হাজার লিটার পেট্রোল ও অকটেন ক্রয় করেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই বিপুল পরিমাণ তেলের মধ্যে মাত্র ৮ হাজার লিটার ফিলিং স্টেশনের পাম্পের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি প্রায় ৪৮ হাজার লিটার তেল অবৈধভাবে কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের ঘটনা শুধু অর্থনৈতিক অপরাধই নয়, বরং জনস্বার্থের পরিপন্থী। জ্বালানি তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে অনিয়ম সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াতে পারে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে পারে। তারা মনে করছেন, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা থাকলে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে এবং তা সংশ্লিষ্ট দলের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে আরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্বালানি খাতে এমন অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
ঘটনার পরবর্তী অগ্রগতি জানতে স্থানীয়দের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মহলও এখন প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।