
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলা নববর্ষের আনন্দ, গ্রামীণ ঐতিহ্যের রঙ আর মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে উঠেছে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর খরিচা এলাকা। পহেলা বৈশাখকে ঘিরে আয়োজিত দিনব্যাপী উৎসব যেন পরিণত হয়েছে এক প্রাণের মিলনমেলায়। এরই কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বহুল জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলা রশি টানাটানি, যা ঘিরে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ৫নং সিরতা ইউনিয়নের চর খরিচা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গোলাম হোসেন সরকার স্মৃতি সংঘের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এই ব্যতিক্রমী আয়োজন। প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও সংগঠনটি গ্রামীণ ক্রীড়া ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সকাল থেকেই মাঠে ভিড় জমাতে থাকেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ, শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণ, নারী-পুরুষ সকলের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
রশি টানাটানি খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠজুড়ে তৈরি হয় চরম উত্তেজনা। প্রতিটি দলে ছিল জয়ের দৃঢ় প্রত্যয়, আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে ওঠে আরও রোমাঞ্চকর। খেলায় অংশ নেওয়া প্রতিযোগীরা দলবদ্ধভাবে শক্তি ও কৌশলের সমন্বয় ঘটিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যা দর্শকদের মাঝে বাড়তি আনন্দ যোগায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি নেতা ও বর্ষবরণ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মোঃ আল মামুন এবং গোলাম হোসেন সরকার স্মৃতি সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মোঃ ফয়জুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোঃ রাকিবুল আক্তার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোঃ রাকিবুল আক্তার বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা আমাদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে আমাদের শিকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিরতা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন আহমেদ বকুল, পরানগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হানিফ সরকারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আয়োজকরা জানান, এবারের রশি টানাটানি প্রতিযোগিতায় মোট ১৬টি দল অংশগ্রহণ করেছে। প্রথম দিনে ৮টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়, দ্বিতীয় দিনে হয় ৪টি খেলা। আগামীকাল আরও ২টি খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সবশেষে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল ম্যাচ, যার মাধ্যমে এ প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।
বক্তারা আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই এসব খেলাকে টিকিয়ে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে আগ্রহ তৈরি করতে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
দিনব্যাপী এই আয়োজন শুধু একটি খেলা নয়, বরং ছিল গ্রামের মানুষের মিলন, আনন্দ ও ঐক্যের প্রতীক। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকলে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আরও সমৃদ্ধভাবে পৌঁছে যাবে।