
মোঃ খোরশেদ আলম, নিজস্ব প্রতিবেদক:
জামালপুর সদর উপজেলার সুইড স্কুল চালাপাড়ায় নারী কৃষকদের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (DAE) নিয়মিত সম্প্রসারণ সেবার আওতায় নিয়ে আসার এবং তাদেরকে বেসরকারি খাতের সাথে সম্পৃক্ত করার ব্যবসায়িক যৌক্তিকতা (business case) চিহ্নিত করা।
এটি তাদের বাণিজ্যিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, তথ্য ও কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিতে নারী দেরমূল ধারায় সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই উদ্যোগটি মূলত একটি ‘উইন-উইন মডেল’ বা উভয়ের জন্য লাভজনক একটি ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে। একদিকে, নারী কৃষকেরা যখন নিয়মিত সরকারি সেবা (DAE) এবং আধুনিক কৃষি উপকরণ পাবেন, তখন তাদের ফলন ও আয় বাড়বে। অন্য দিকে, বেসরকারি খাতের কোম্পানিগুলো একদল দক্ষ ও পরিশ্রমী নারী উদ্যোক্তা ,CMA, বাসরবরাহকারী (suppliers) পাবে, যা তাদের ব্যবসার প্রসার ঘটাবে। সহজ কথায়, এই মডেলের মাধ্যমে নারী কৃষক এবং বেসরকারি ব্যবসা—উভয় পক্ষই সমান ভাবে লাভবান হবে।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আলম শরীফ খান, উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জামালপুর।
উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজব আলী, মুখ্যবৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ,মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক কামরুন্নাহার, মুর্শেদুর রহমান, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, পিকন কুমার শাহা, ডিস্ট্রিক্ট ট্রেনিং অফিসার, কৃষি অধিদপ্তর জামালপুর, এমদাদুল ইসলাম উপাজেলা কৃষি কর্মকর্তা, জামালপুর সদর, আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল উপজেলা কৃষি অফিসার ইসলামপুর, পরিমল সরকার এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট, শাফিকুর রহমান, জেন্ডার স্পেশালিস্ট, GESMIN প্রজেক্ট, ব্র্যাক সীড প্রাইভেট কোম্পানিএর ডিটন চন্দ্রা প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিএমএ, নারী উদ্যোক্তা ও নারী কৃষক GESMIN প্রজেক্ট, জামালপুর। ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক মোঃ শফিকুল ইসলাম, পারি ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্টের লাইভলিহোড অফিসার রাজু আহমেদ, জাতীয় যুব পুরস্কার প্রাপ্ত উদ্যোক্তা ও যুব সংগঠক সূর্য তোরণ সমাজ সেবাসংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও মানবাধিকার কর্মীমোঃ খোরশেদ আলম।
উপস্থাপনায় ছিলেন Gender DRR & CC Officer মোছাঃ সাদেকা বেগম।
উল্লেখ থাকে যে, অস্ট্রেলিয়ানসরকারের সহায়তায় Australian NGO Cooperation Program (ANCP)-এরঅর্থায়নে “Gender Inclusive Market Systems for Improved Nutrition (GESMIN)” প্রকল্পের আওতায় World Vision Bangladesh এবং উন্নয়ন সংঘ যৌথভাবে একর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে ।
বুধবার (১৭ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ) সুইড বাংলাদেশ হল রুম জামালপুরের চালাপাড়ায় আয়োজিত এ সভায় উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মুখ্য বৈজ্ঞানিকৎকর্মকর্তা, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, কামরুন নাহার, উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব), মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, উপজেলা সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, সহকারী উপ-পরিচালক, উপ-সহকারী কৃষিকর্মকর্তা , সরকারি এই কর্মকর্তাদের পাশাপাশিবেসরকারি খাত, কমিউনিটি মার্কেটএজেন্ট, নারী উদ্যোক্তা, নারীকৃষক, কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটর এবং জেসমিন (GESMIN) প্রকল্পেরকর্মকর্তা- কর্মচারীবন্দ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রেরউন্নয়নে নারী ও পুরুষেরসমান অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়নঅত্যন্ত জরুরি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারীরা কেবল গৃহস্থালি কাজেরমধ্যেই সীমাবদ্ধ নন, বরং তারানিজেদের একটি ‘বিজনেস কেস’ বা ব্যবসায়িকমডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছেন। এর মাধ্যমে তারা উপার্জনের পথ তৈরি করে একদিকে যেমন নিজের ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটাচ্ছেন, অন্যদিকে সমাজ ও পরিবারেনিজেদের মর্যাদা ও মূল্য বহুগুণবাড়িয়ে তুলছেন। নারীদের এই অর্থনৈতিক ওসামাজিক অগ্রযাত্রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে জেসমিন (GESMIN) প্রকল্পের MenCare পদ্ধতি। এই বিশেষউদ্যোগটির মাধ্যমে পরিবারের পুরুষদের সচেতন করা হচ্ছে, যাতেতারা ঘরের কাজে নারীদেরসহযোগিতা করেন এবং নারীদেরঅর্থনৈতিক স্বাধীনতায় বাধা না হয়েসহায়ক ভূমিকা পালন করেন। পুরুষদেরএই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই মূলত নারী উদ্যোক্তাও কৃষকদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথকে আরও মসৃণকরে তুলছে যাহা টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। নারীরক্ষমতায়নের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়নঅত্যন্ত জরুরি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারীরা কেবল গৃহস্থালি কাজেরমধ্যেই সীমাবদ্ধ নন, বরং তারানিজেদের একটি ‘বিজনেস কেস’ বা ব্যবসায়িকমডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছেন। এর মাধ্যমে তারাউপার্জনের পথ তৈরি করে একদিকে যেমন নিজের ওপরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটাচ্ছেন, অন্যদিকে সমাজ ও পরিবারেনিজেদের মর্যাদা ও মূল্য বহুগুণবাড়িয়ে তুলছেন। নারীদের এই অর্থনৈতিক ওসামাজিক অগ্রযাত্রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে জেসমিন (GESMIN) প্রকল্পের ‘মেঙ্ক্যার’ (MenCare) পদ্ধতি। এই বিশেষউদ্যোগটির মাধ্যমে পরিবারের পুরুষদের সচেতন করা হচ্ছে, যাতেতারা ঘরের কাজে নারীদেরসহযোগিতা করেন এবং নারীদেরঅর্থনৈতিক স্বাধীনতায় বাধা না হয়েসহায়ক ভূমিকা পালন করেন। পুরুষদেরএই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই মূলত নারী উদ্যোক্তাও কৃষকদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথকে আরও মসৃণকরে তুলছে।
আলোচনায়নারীরা যাতে কৃষি খাতেআরও বেশি এগিয়ে আসতে পারেন এবং নিজেদের একটিসফল ‘বিজনেস কেস’ বা ব্যবসায়িক মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, সেজন্যতাদেরকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন। নারীদের এই অগ্রযাত্রা নিশ্চিতহলে কেবল তাদের নিজেদেরক্ষমতায়নই হবে না, বরংসামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও টেকসই অগ্রগতিসাধিত হবে। আর এইলক্ষ্য বাস্তবায়নে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE) এবং বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি (Private Sector) যৌথভাবে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে। সরকারি ও বেসরকারি এইসমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নারী কৃষকেরা আধুনিককৃষি প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, উন্নত বীজ-সার এবংসরাসরি বাজারের সাথে যুক্ত হওয়ারসুযোগ পাবেন, যা তাদের দেশেরঅর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবেগড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
নারীকৃষকেরা জানিয়েছেন যে, আধুনিক ও উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারকরে এবং হাতের কাছেইসব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও উপকরণ পাওয়ারকারণে তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই সাফল্যের পেছনেজেসমিন (GESMIN) প্রকল্প, কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE) কমিউনিটি মার্কেট এজেন্ট, নারী উদ্যোক্তাএর অবদান অনস্বীকার্য।
মেনকেয়ার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জেন্ডার বিষয়েওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আমাদেরজামালপুর জেলায় কাজ করায় নারীপুরুষের সমতা বৃদ্ধি পেয়েছেসভাকে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও নিয়মিতআয়োজনের আহ্বান জানান।