
মোঃ মতিউর রহমান, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:
আজ (০৬ জুলাই, ২০২৬) তারিখে জেলা প্রশাসন ময়মনসিংহের নির্দেশনায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক উন্নয়নকে আরও বেগবান করতে উপজেলা প্রশাসন, ভালুকার আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে দিনব্যাপী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ও অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব ফখর উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনাব মোঃ সাইফুর রহমান, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ময়মনসিংহ। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন ভালুকা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনাব মোঃ ফিরোজ হোসেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের আওতায় বাস্তবায়িত উন্নয়নমূলক কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের মাঝে সহায়তা, অনুদান ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের অংশ হিসেবে ১০০টি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে সফল উদ্যোক্তা তৈরিতে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে ২ জন সেরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে সম্মাননা ও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের পক্ষ থেকে ভালুকা উপজেলার নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাগুলোর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে ২৯টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় উপজেলার ১৩টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রত্যেককে ৩৬ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ টাকার অনুদানের চেক প্রদান করা হয়। এ অনুদান স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও সমৃদ্ধ ও বিকশিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের বাস্তবায়িত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র ও মেধাবী ১১ জন শিক্ষার্থী (বালিকা)-এর মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়, যাতে তারা সহজে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে পারে। পাশাপাশি ৭ জন নারীর আত্মকর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। এছাড়া ৭২ জন শিক্ষার্থীর মাঝে মোট ৩ লাখ ১৬ হাজার টাকার শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়, যা তাদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালু করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ এবং প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফুলের বাগান তৈরির জন্য নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে ক্রীড়াঙ্গনে অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬” প্রতিযোগিতায় ময়মনসিংহ জেলায় বিজয়ী ভালুকা উপজেলা বালিকা দলকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা ও উপহার প্রদান করে সংবর্ধনা জানানো হয়। বক্তারা বলেন, এই ধরনের স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে খেলাধুলায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বোয়েসেলের (BOESL) মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৪ জন নারী পোশাক শ্রমিককে জর্ডানে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে তাদের জর্ডানে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ উপলক্ষে তাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয় এবং বিদেশগামী অন্যান্য নারীদেরও উদ্বুদ্ধ করা হয়। উল্লেখ্য, এরই মধ্যে একই কর্মসূচির আওতায় ৫ জন নারী সফলভাবে জর্ডানে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গমন করেছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব ফখর উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ সাইফুর রহমান বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রতিটি সুবিধা যেন প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়নকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে জেলা প্রশাসনের এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজসেবী, শিক্ষার্থী, ক্রীড়াবিদ, সুবিধাভোগী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বহুমুখী এই আয়োজনের মাধ্যমে একদিনেই শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে বলে উপস্থিত অতিথিরা অভিমত ব্যক্ত করেন।