1. : lf_B9ME3ZFMk6jU :
  2. : lf_HXNdfDqKhDl6 :
  3. lprgVloYPNJJgR@gmail.com : lprgVloYPNJJgR :
  4. live@www.dailymymensinghkantha.com : দৈনিক ময়মনসিংহের কন্ঠ : দৈনিক ময়মনসিংহের কন্ঠ
  5. info@www.dailymymensinghkantha.com : দৈনিক ময়মনসিংহের কন্ঠ :
বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৮ পূর্বাহ্ন

শিক্ষা শুধু বইয়ের পাতায় নয়, জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতায় -গোলাম কিবরিয়া পলাশ

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪৬ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেক্স:

শিক্ষা কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়; জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতা, প্রতিটি ভুল, প্রতিটি সংকট ও প্রতিটি অর্জনের মধ্যেই রয়েছে নতুন কিছু শেখার সুযোগ। মানুষ যতদিন শেখে, ততদিনই নিজেকে পরিবর্তন ও উন্নত করার সুযোগ পায়। আর শেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেললে থেমে যায় ব্যক্তিগত উন্নয়ন ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ।

এমনই এক জীবনঘনিষ্ঠ বার্তা তুলে ধরে ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া পলাশ বলেন, জীবনে চলার পথে প্রতিটি মানুষকেই নানা ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। কখনো আসে সাফল্য, কখনো ব্যর্থতা; কখনো আনন্দ, আবার কখনো কষ্ট। তবে এসব অভিজ্ঞতার প্রতিটিই মানুষকে নতুনভাবে গড়ে ওঠার সুযোগ করে দেয়।

তিনি বলেন, শিক্ষা শুধু বইয়ের পাতায় নয়, জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতায় লুকিয়ে থাকে। আমরা অনেক সময় ভুলকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখি। কিন্তু একটি ভুলও হতে পারে জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে সংশোধন করতে পারাই প্রকৃত সাফল্যের অংশ।

গোলাম কিবরিয়া পলাশ আরও বলেন, জীবনে কষ্ট ও প্রতিকূলতা আসবেই। প্রতিকূল পরিস্থিতিকে ভয় পেয়ে থেমে গেলে চলবে না। বরং কষ্টকে শক্তিতে পরিণত করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ জীবনের কঠিন সময়গুলোই অনেক সময় মানুষের প্রকৃত সক্ষমতা, ধৈর্য ও মানসিক শক্তিকে প্রকাশ করে।

তিনি বলেন, কষ্টকে অভিশাপ হিসেবে না দেখে শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। যে মানুষ কঠিন সময় থেকে শিক্ষা নিতে পারে, সে ভবিষ্যতের পথ অনেক বেশি দৃঢ়তার সঙ্গে অতিক্রম করতে পারে। জীবনের প্রতিটি আঘাত আমাদের কিছু না কিছু শেখায়, প্রতিটি ব্যর্থতা নতুনভাবে চেষ্টা করার সাহস দেয়।

তিনি তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, বর্তমানে তথ্য ও প্রযুক্তির যুগে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ অনেক বেশি। কিন্তু শুধু তথ্য জানলেই শিক্ষিত হওয়া যায় না; সেই জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার সক্ষমতাও অর্জন করতে হবে। মানুষের প্রতি সম্মান, দায়িত্ববোধ, সততা, মানবিকতা, নৈতিকতা ও বিবেকবোধ, এসবও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন নয়। শিক্ষা মানুষকে ভালো মানুষ হতে শেখায়, অন্যের প্রতি দায়িত্বশীল হতে শেখায়, ভুল স্বীকার করতে শেখায় এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার সাহস দেয়।

গোলাম কিবরিয়া পলাশের মতে, জীবনে কখনো এমন কোনো দিন আসে না, যেদিন শেখার মতো কিছু থাকে না। একজন মানুষ যদি নিজের চারপাশের মানুষ, সমাজ ও পরিবেশ থেকে শিক্ষা নিতে চায়, তাহলে প্রতিদিনই তার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে। তাই প্রতিটি দিনকে নতুন সম্ভাবনার দিন হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, গতকাল কী হয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো গতকাল থেকে আমরা কী শিখেছি। ভুল হয়ে গেলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সেই ভুল যেন দ্বিতীয়বার না হয়, সেটাই সবচেয়ে বড় শিক্ষা। অতীতকে অভিজ্ঞতা হিসেবে নিয়ে বর্তমানকে সুন্দর করতে হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জীবনের পথে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার চেয়ে নিজের গতকালের অবস্থান থেকে আজকে একটু ভালো হওয়ার চেষ্টা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রকৃত উন্নতি হলো নিজের সীমাবদ্ধতাকে চিহ্নিত করে ধীরে ধীরে তা অতিক্রম করা।

তার ভাষায়, প্রতিদিন নিজেকে একটি প্রশ্ন করতে হবে, আজ আমি নতুন কী শিখলাম? কোথায় ভুল করেছি? কীভাবে নিজেকে আরও ভালো করা যায়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে পারলে মানুষ প্রতিদিনই নিজের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবে।

তিনি বলেন, জীবনে ব্যর্থতা আসলে পথের শেষ নয়; বরং অনেক সময় সেটিই নতুন পথের সূচনা করে। তাই কোনো ব্যর্থতা বা হতাশাকে জীবনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করতে হবে।

গোলাম কিবরিয়া পলাশ বলেন, প্রতিটি দিনকে নতুনভাবে শুরু করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। গত দিনের হতাশা যেন আজকের সম্ভাবনাকে নষ্ট না করে। সূর্য প্রতিদিন নতুন আলো নিয়ে আসে, আমরাও প্রতিদিন নতুন স্বপ্ন, নতুন শিক্ষা ও নতুন প্রত্যয় নিয়ে পথ চলতে পারি।

তিনি মনে করেন, একটি সুন্দর সমাজ গঠনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি জীবনমুখী শিক্ষারও প্রয়োজন রয়েছে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও কর্মক্ষেত্র প্রতিটি জায়গা থেকেই মানুষ মূল্যবান শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। আর সেই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে ও সমাজকে এগিয়ে নেওয়াই হওয়া উচিত প্রত্যেকের লক্ষ্য।

সবশেষে তিনি বলেন, শেখা কখনো বন্ধ করা যাবে না। বয়স, অবস্থান কিংবা পেশা কোনোটিই শেখার পথে বাধা হতে পারে না। যতদিন মানুষ নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করবে, ততদিন তার সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। কারণ শেখা বন্ধ মানেই এগিয়ে যাওয়া বন্ধ।

তার এই বক্তব্যে জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা, ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া, কষ্টকে শক্তিতে রূপান্তর করা এবং প্রতিদিন নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার আহ্বান উঠে এসেছে। জীবনের পথ যতই কঠিন হোক, শিক্ষা ও অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলার মধ্যেই রয়েছে সাফল্যের প্রকৃত সম্ভাবনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট