
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ময়মনসিংহে দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন প্রকল্প উদ্বোধনের পরও বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি নেই। সংশ্লিষ্ট এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রকল্পের কাজ শুরু না হয়ে কেবল উদ্বোধনী ফলক বসিয়েই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রয়েছে। এতে করে স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
সম্প্রতি গৌরীপুর উপজেলার সিধলা ইউনিয়নের বলার বিল খাল এবং মুক্তাগাছা উপজেলার সিংড়া খালের পুনঃখনন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পার হলেও কোথাও খনন কার্যক্রম শুরু হয়নি। খালগুলোর স্থানে গিয়ে দেখা যায়, কেবল উদ্বোধনী ফলক স্থাপন করা হয়েছে। কিছু স্থানে খালের সীমানা চিহ্নিত করতে বাঁশ পুঁতে রাখা হলেও প্রকৃত কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খালগুলো পুনঃখনন না হওয়ায় পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুম এলেই বিস্তীর্ণ কৃষিজমি জলাবদ্ধতায় ডুবে যায়, যা ফসল উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
গৌরীপুরের বলার বিল খালটি পুনঃখনন করা হলে অন্তত ৮ থেকে ১০টি গ্রামের কৃষক উপকৃত হবেন বলে আশা করছেন এলাকাবাসী। অন্যদিকে মুক্তাগাছার সিংড়া খালের পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় কাজলকোঠা বিল এলাকার প্রায় ৬০ একর জমি দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদের বাইরে রয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ১১টি খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫৫ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে খালগুলোর সীমানা নির্ধারণ ও দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। তবে এখনো পর্যন্ত প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বরাদ্দ মিললেই দ্রুত খনন কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে তারা আশ্বাস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, যেসব খালের পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে, সেগুলোর বাস্তব কাজ এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি। বাজেট অনুমোদন ও বরাদ্দ পেলেই দ্রুত পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু করা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুধু উদ্বোধন নয়, দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে খালগুলো পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি। তা না হলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতার সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।