
অনলাইন ডেক্স:
দেশে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে এবং রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কারণে গণমাধ্যমকর্মীরা নানামুখী হয়রানি, হামলা-মামলা ও নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ছেন বলে মন্তব্য করেছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া পলাশ।
তিনি বলেন, সাংবাদিকরা আজ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের শিকার। স্বাধীনভাবে সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে তারা নানা ধরনের চাপ, ভয়ভীতি, হয়রানি ও নিপীড়নের মুখোমুখি হচ্ছেন। এ পরিস্থিতির দায় রাষ্ট্র কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারে না। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
গোলাম কিবরিয়া পলাশ আরও বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণতন্ত্র, সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, লাঞ্ছনা, মিথ্যা মামলা এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে স্বাধীন সাংবাদিকতা যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি জনগণের তথ্য জানার অধিকারও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের রাজনৈতিক পরিচয়ে বিভক্ত করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। একজন সাংবাদিকের একমাত্র পরিচয় হওয়া উচিত তার পেশাগত সততা ও দায়িত্বশীলতা। কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে সাংবাদিকদের হয়রানি কিংবা টার্গেট করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য শুভ লক্ষণ নয়।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত প্রতিটি হামলা, নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
গোলাম কিবরিয়া পলাশ বলেন, রাষ্ট্র যদি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে স্বাধীন গণমাধ্যমের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ভয়ভীতি ও দমন-পীড়নের সংস্কৃতি বন্ধে রাষ্ট্রকে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট সব মহলের প্রতি সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বলেন, একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি।