1. : lf_B9ME3ZFMk6jU :
  2. : lf_HXNdfDqKhDl6 :
  3. lprgVloYPNJJgR@gmail.com : lprgVloYPNJJgR :
  4. live@www.dailymymensinghkantha.com : দৈনিক ময়মনসিংহের কন্ঠ : দৈনিক ময়মনসিংহের কন্ঠ
  5. info@www.dailymymensinghkantha.com : দৈনিক ময়মনসিংহের কন্ঠ :
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন

শম্ভুগঞ্জে উম্মুল কুরা মহিলা মাদরাসায় উত্তেজনা : মুহতামিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, হামলা-ভাঙচুরে ক্ষোভ; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
  • ১৫৩ বার পড়া হয়েছে

গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত উম্মুল কুরা মহিলা মাদরাসাকে কেন্দ্র করে একটি ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা সাইফুল বারীর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয় কিছু ব্যক্তি মাদরাসায় হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার বিকেলে একদল যুবক আকস্মিকভাবে মাদরাসায় প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। পরে মাদরাসার মুহতামিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক স্পর্শের অভিযোগ তুলে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং পরবর্তীতে মামলার প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠায়।

ঘটনার পর বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, অভিযোগের তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটল। অনেকেই মনে করছেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এদিকে অভিযুক্তের সমর্থকদের দাবি, যে মেয়েকে কেন্দ্র করে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তিনি বা তার নিকটাত্মীয় মামলার বাদী নন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্য একজন ব্যক্তি বাদী হিসেবে মামলা করেছেন। এ বিষয়টি নিয়েও নানা প্রশ্ন তুলছেন তারা। তবে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং মামলার নথিই চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

মাওলানা সাইফুল বারীর পরিচিতজনদের একটি অংশ দাবি করছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও দ্বীনি খেদমতের সঙ্গে যুক্ত এবং এর আগে তার বিরুদ্ধে কোনো চারিত্রিক অভিযোগ প্রকাশ্যে ওঠেনি। তাদের মতে, পুরো বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা জরুরি।

অন্যদিকে অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য ও তদন্ত সংস্থার অনুসন্ধানও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আবার অভিযোগ মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হলে মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আলেম, শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিক নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী বা নির্দোষ ঘোষণা করা উচিত নয়। একই সঙ্গে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাও বন্ধ হওয়া দরকার।

স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনগুলোর প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন উত্তেজনা না ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ তদন্তে সহযোগিতা করেন এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেন।

সর্বশেষে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, এ ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদঘাটনের স্বার্থে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে অপরাধী যে-ই হোন, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর যদি অভিযোগ ভিত্তিহীন বা ষড়যন্ত্রমূলক প্রমাণিত হয়, তাহলে মিথ্যা অভিযোগ ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সমাজে গুজব, বিভ্রান্তি ও বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডও নিরুৎসাহিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট