
গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় আলোচিত ৩৫ লাখ টাকা চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দুই পেশাদার চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া ২১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া দুইজন হলেন মুক্তাগাছা উপজেলার বিরাশি মধ্যপাড়া এলাকার সৌরভ মিয়া (৩০) ও জনি (২৫)। বুধবার ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুক্তাগাছা উপজেলার বিরাশি এলাকার ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম জমি কেনার উদ্দেশ্যে ব্যবসার ৩৫ লাখ টাকা নিজ বাড়িতে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। ব্যাংক হিসাব না থাকায় তিনি টাকাগুলো বসতঘরের শয়নকক্ষে থাকা একটি স্টিলের ট্যাংকের মধ্যে রাখেন। এ সময় তার বাবা হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন এবং বাড়িতে একাই ছিলেন তার মা হাসিনা বেগম।
গত ১ এপ্রিল সন্ধ্যায় হাসিনা বেগম প্রতিবেশীর বাড়িতে গেলে সুযোগ নেয় দুর্বৃত্তরা। তারা ঘরের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে শয়নকক্ষের স্টিলের ট্যাংক ভেঙে নগদ ৩৫ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় মুক্তাগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার পরপরই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ময়মনসিংহ পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে একাধিক টিম মাঠে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অবশেষে ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুইজন চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির একটি ভাড়া বাসা থেকে ১৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানার চর কুষ্টিয়া এলাকায় সৌরভের খালার গোয়ালঘরের মাচার নিচ থেকে আরও ৩ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার দুইজনই পেশাদার ছিনতাইকারী ও চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় ছিনতাই, চুরি ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে ছিল। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া টাকাসহ গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানো হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্ধারকৃত টাকা ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।