
গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহ মহানগরীর মাসকান্দা এলাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে চাঞ্চল্যকর রাব্বী (২৭) হত্যা মামলার প্রধান আসামি আব্দুল খালেককে (২৬) ঘটনার মাত্র আট ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে হত্যাকাণ্ডের পর রাতেই কোতোয়ালী থানার রঘুরামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-১৪-এর সিপিএসসি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে আব্দুল খালেককে গ্রেফতার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরপরই র্যাবের একটি দল ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে।
নিহত রাব্বী ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানার মাসকান্দা এলাকার ভুট্রো মিয়ার ছেলে। বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে তিনি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্বশত্রুতার জের ধরে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়।
হামলা থেকে বাঁচতে রাব্বী পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিলেও হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ভাই রিয়াদকেও আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা রাব্বীকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে র্যাব-১৪ তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
র্যাবের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার আট ঘণ্টার মধ্যেই রঘুরামপুর এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি আব্দুল খালেককে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
প্রাথমিক তদন্তে পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডে অন্যদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রধান আসামিকে গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। একই সঙ্গে রাব্বী হত্যার সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে আইনের আওতায় এনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।