
টানা কয়েক দিন বিদ্যুৎবিহীন থাকার ক্ষোভে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পিডিবির এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের পিডিবি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দ্রুত নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা কার্যালয় ত্যাগ করেন।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট রাতে পৌর এলাকার শিমরাইল গ্রামের একটি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যায়। এরপর থেকে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে শিমরাইল গ্রামের প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন বাসিন্দা পিডিবি কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষুব্ধ লোকজন কার্যালয়ের কাচ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ড্রয়ারে ভাঙচুর চালান। এ সময় পিডিবির উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম আহত হন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সজিব মিয়া, নূরুল হক, আতিকুল ইসলাম ও জহিরুল ইসলামের দাবি, নতুন ট্রান্সফরমার দেওয়ার কথা বলে পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলীকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা পিডিবি কার্যালয়ে যান।
তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিডিবির উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম। হামলায় আহত এই কর্মকর্তা বলেন, ট্রান্সফরমারের জন্য ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তবে বিদ্যুৎ সংযোগ ও মেরামতের কাজে লাইনম্যানদের বিভিন্ন ধরনের খরচ দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক মাস আগেও একই গ্রামের ট্রান্সফরমার বিকল হয়েছিল। তখন নতুন ট্রান্সফরমারের পরিবর্তে একটি পুরোনো ট্রান্সফরমার বসানো হয়। কিছুদিন পর সেটিও নষ্ট হয়ে যায়। বারবার পুরোনো ট্রান্সফরমার ব্যবহারের কারণে স্থায়ীভাবে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁদের।
এ বিষয়ে পিডিবি ঈশ্বরগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলী হামজা ইমাম বলেন, শিমরাইল গ্রামের ট্রান্সফরমার বিকলের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তবে ট্রান্সফরমারের সংকট থাকায় নতুন ট্রান্সফরমার সরবরাহে বিলম্ব হয়েছে।
পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর দ্রুত নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপর বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা পিডিবি কার্যালয় থেকে চলে যান।