
এসিল্যান্ড এস এম নাজমুস ছালেহীনের উদ্যোগে সরকারি নির্ধারিত ফিতে নামজারি সেবা, হয়রানি কমায় সন্তুষ্ট ভূমি মালিকরা
গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ভূমি মালিকদের মধ্যে। নামজারি ও খারিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমি সেবা নিতে আগের মতো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সেবাগ্রহীতারা। সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে নিয়ম মেনে আবেদন করলে সাত দিনের মধ্যেই নামজারি খারিজের সেবা পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি তাদের।
স্থানীয় ভূমি মালিকদের ভাষ্য, তারাকান্দা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম নাজমুস ছালেহীন যোগদানের পর থেকেই ভূমি অফিসের সেবাপ্রক্রিয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে নামজারি, খারিজসহ বিভিন্ন ভূমি সেবা নিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমেছে। একই সঙ্গে ভূমি অফিসকেন্দ্রিক দালালচক্রের দৌরাত্ম্যও আগের তুলনায় অনেকটাই কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।
ভূমি মালিকদের অভিযোগ ছিল, অতীতে নামজারি ও খারিজের মতো নিয়মিত সেবা নিতে গিয়ে অনেক সময় তাদের দীর্ঘসূত্রতা, হয়রানি এবং নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো। অনেক সেবাগ্রহীতাই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তেন। এতে নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও ছিল।
তবে বর্তমানে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, ভূমি অফিসে সেবার ক্ষেত্রে নিয়ম-কানুন মেনে কাজ করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষ সরাসরি আবেদন করতে আগ্রহী হচ্ছেন। ফলে দালালের ওপর নির্ভরশীলতাও কমছে।
একজন স্থানীয় ভূমি মালিক বলেন, আগে নামজারি বা খারিজ করতে গেলে কীভাবে আবেদন করতে হবে, কোথায় যেতে হবে, এসব নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্ত থাকতেন। ফলে দালালের শরণাপন্ন হতে হতো। এখন ভূমি অফিসে গিয়ে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ অনেক স্বস্তি পেয়েছে।
আরেক সেবাগ্রহীতা বলেন, সরকারি নির্ধারিত ফি দিয়ে সাত দিনের মধ্যে নামজারি খারিজের সেবা পাওয়া যাচ্ছে, এটা আমাদের জন্য বড় সুবিধা। সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো, কাজ করিয়ে নিতে এখন আগের মতো দালালের পেছনে ছুটতে হচ্ছে না। অফিসে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে নিয়ম মেনে সেবা নেওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় ভূমি মালিকদের দাবি, ভূমি অফিসে সেবার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও কমবে। তারা মনে করেন, নামজারি ও খারিজের আবেদন থেকে শুরু করে শুনানি ও নিষ্পত্তি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হলে ভূমি সংক্রান্ত অনিয়মের সুযোগ কমে যায়।
সেবাগ্রহীতাদের মতে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম নাজমুস ছালেহীনের যোগদানের পর তারাকান্দা ভূমি অফিসে সেবার ক্ষেত্রে নিয়ম-কানুন অনুসরণের প্রবণতা বেড়েছে। ফলে ভূমি মালিকরা সরাসরি সরকারি ব্যবস্থাপনায় সেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। এতে ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষের আস্থাও বাড়ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা শুধু একটি অফিসের সেবার মান উন্নত করে না; এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পত্তির নিরাপত্তা, সময় ও অর্থ সাশ্রয় এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার বিষয়টিও জড়িত। নামজারি ও খারিজের মতো সেবাগুলো দ্রুত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন হলে ভূমি মালিকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।
তারা আরও বলেন, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ বন্ধ করা এবং দালালমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে সেবাগ্রহীতাদেরও দালালের মাধ্যমে না গিয়ে সরাসরি ভূমি অফিসের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করার আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় ভূমি মালিকদের প্রত্যাশা, তারাকান্দা উপজেলা ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনবান্ধব সেবার এই পরিবেশ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। নামজারি-খারিজসহ সব ধরনের ভূমি সেবা যাতে নির্ধারিত সময় ও সরকারি ফি অনুযায়ী সাধারণ মানুষ পেতে পারেন, সেটিই এখন তাদের প্রধান প্রত্যাশা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ভূমি অফিসের সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার, নিয়মিত তদারকি এবং কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানো গেলে দালালনির্ভরতা আরও কমানো সম্ভব। তারাকান্দায় ভূমি সেবায় বর্তমান ইতিবাচক পরিবেশ ধরে রাখা গেলে এটি উপজেলার ভূমি মালিকদের জন্য একটি কার্যকর ও জনবান্ধব দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।